মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

(ক) বাউল গীতিঃ

বৃহত্তর কুষ্টিয়ার অঞ্চল হিসেবে মোনাখালী ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার বাউল সম্রাট লালন শাহের প্রভাবে শত শত বাউল অনুরাগী ও বাউলশিল্পীর সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা মানব ধর্মের কথা বলেন এবং দেহ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন। বাউলগণ দেহ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও মরমী গানের মাধ্যমে মানুষকে অতিন্দ্রীয় লোকে বিচরণ করাতে সক্ষম হন।মেহেরপুরে এখনো শত শত বাউল অনুরাগী তাঁদের ব্যক্তি জীবনে বাউল সঙ্গীত ও লালনের জীবনাদর্শ চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।

 

 

(গ) মানিক পীরের গানঃ

মানিক পীর মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের গৃহস্থের নিকট সমভা বেশ্রদ্ধার পাত্র হয়ে আছেন।মেহেরপুরের লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্যে মানিকপীরের গান এক অমূল্ যসম্প দহিসেবে স্বীকৃত। মোনাখালী গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে শিবপুর ও রামনগর গ্রামগুলোতে মানিক পীরের গানের বেশ প্রচলন রয়েছে। পৌষ মাসের সংক্রান্তিতে মানিকপীরের গান গেয়ে কেউ কেউ ভিক্ষা করে বেড়ায়। ভিক্ষার দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে ১লা মাঘ একটি নির্দিষ্ট স্থানে রান্না করে তবারক হিসেবে বিলি করা হয়।

মোনাখালী অঞ্চলে প্রচলিত মানিকপীরের গানের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলোঃ-

‘‘মানিকের নামে তোমরা হেলা করো না

মানিকের নাম থাকলে বিপদ হবে না।

মানিকের নামে চাল-পয়সা যে করিবে দান

গাইলে হবে গরম্ন-বাছুরক্ষেতেফলবেধান।’’

মানিকপীরের গানে তাঁর মাহাত্ম এ না ভিক্ষা দেয়ায় গো-মড়কের কাহিনী বলা হয়ে থাকে।

 

(ঘ) ভাসানগানঃ

মোনাখালী ইউনিয়িনের বিভিন্ন গ্রামে ভাসান গানের দল রয়েছে।এই গানের বৈশিষ্ট হলো- তিনটি পালা করে গায়করা গান গেয়ে থাকেন।জন্ম পালা, বাঁচার পালা ও মৃত্যু পালা।মৃত্যু পালা হচ্ছে শ্রোতাদের কাছে সব চেয়ে প্রিয়।শীতকালে বাড়ী বাড়ী ভাসান গানের আসর করে থাকে । সারারাত ধরে এ গানের আসর চলে থাকে। ভাসান গানের মধ্যে বেহুলা স্বামী বিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বর্ণনা দেয়া হয়ে থাকে তা শ্রোতার মনকে বিশেষ ভাবে আলোড়িত করে থাকে।ভাসান গানের কিছু্ অংশ এখানে তুলে ধরা হলোঃ-

‘‘ওকিসাধ আছে হে দিতে লকায়ের বিয়ে

আর কিছু দিন রাখ বো ঘরে ধুলো খেলা দিয়ে।’’

ছবি